• মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২
  • ঢাকা, বাংলাদেশ

‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’-তেও  শ্রমিকশ্রেণির উপর নিপীড়ন-নির্যাতন অব্যাহত

‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’-তেও  শ্রমিকশ্রেণির উপর নিপীড়ন-নির্যাতন অব্যাহত

  আন্দোলন প্রতিবেদন  

বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

গার্মেন্ট শ্রমিক আন্দোলন : বিগত ফ্যাসিবাদী হাসিনা আমলে প্রতিটি শ্রমিক আন্দোলনকে নিষ্ঠুর নির্যাতন ও প্রতারনার মাধ্যমে দমন করার ইতিহাস সবারই জানা। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. ইউনুস-এর নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতেই শ্রমিক নিপীড়ন চলছে। সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়ের সাথে শ্রমিকদের শ্রমআইন সংশোধন, ঘোষিত বর্ধিত মজুরি বাস্তবায়ন, ওভারটাইম-টিফিন বিল বৃদ্ধি, হাজিরা বোনাস, মাতৃত্বকালীন ছুটি, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ ও বকেয়া বেতন পরিশোধের ১৮ দফা চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু সব চুক্তি সব কারখানায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসেন। এমনকি তারা তখন ন্যূনতম ২৫,০০০ টাকা মজুরি বৃদ্ধির দাবিও করেন। 

নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর সহ অনেক জায়গায় শ্রমিকরা রাজপথ দখল করেন তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ে, বিশেষত বকেয়া বেতন আদায়ের জন্য। কিন্তু রক্তচোষা মালিকদের অনেকেই শ্রমিকদের বকেয়া বেতন না দিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেয়। অথচ ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ ও ‘বিপ্লব’এর চেতনাধারী ইউনুস সরকার পতিত ফ্যাসিবাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে একই কায়দায় অভুক্ত, নিরূপায় শ্রমিকদের আন্দোলন দমনে সেনাবাহিনী-বিজিবি-র‍্যাব-পুলিশের যৌথ বাহিনী লেলিয়ে দেয়। যৌথ বাহিনীর গুলিতে ৩ জন শ্রমিক নিহত এবং ৪২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া অসংখ্য শ্রমিকের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন দমনে বিগত ফ্যাসিবাদী এবং বর্তমান ‘বৈষম্যবিরোধী’ সরকারের অবস্থান একই। শ্রমিকরা রক্ত দিয়েই বকেয়া বেতন আদায় করছেন। ২৫,০০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি সুদূর পরাহত।

 ইতিমধ্যে মার্কিনের এক প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে ইউনুস সরকারের উপর চাপ দিয়েছে মজুরি বৃদ্ধি ও ট্রেড ইউনিয়নের জন্য শর্ত শিথিল করতে। এটি শুনে শ্রমিকদের আপ্লুত হওয়ার কিছু নেই। সাম্রাজ্যবাদীরা ও দেশীয় মালিকরা মিলে মিশে শ্রমিক শোষণ করে। না হলে তাদের মুনাফা হয় না। তারা ইউনুস সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ দিচ্ছে যাতে সরকার তাদের অনুগত থাকে।

ব্যাটারি চালিত রিক্সা শ্রমিক আন্দোলন : সারা ঢাকা শহরে ১০-১২ লক্ষ ব্যাটারি চালিত রিক্সা রয়েছে। বিগত ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার যানজট, বিদ্যুতের অবৈধ ব্যবহার ও দুর্ঘটনার অজুহাতে ব্যাটারি চালিত রিক্সা বন্ধ করার পাঁয়তারা করেছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও একই কারণ দেখিয়ে ব্যাটারি চালিত রিক্সা শ্রমিকদের হয়রানি-নিপীড়ন করছে। শ্রমিকদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টির জন্য প্যাডেল চালিত রিক্সা মালিকদের দ্বারা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হাইকোর্টে রীট করানো হয়। সেই রীট অনুযায়ী হাইকোর্ট গত ১৯ নভেম্বর ঢাকা মহানগরে ব্যাটারি চালিত রিক্সা বন্ধের নির্দেশ দিয়ে শ্রমিকদের রুটি রুজির পথ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ব্যাটারি চালিত রিক্সা শ্রমিকরা বীরত্বপূর্ণ আন্দোলন করে একমাসের জন্য হাইকোর্টের রায়ের স্থগিতাদেশ আদায় করেছেন। সামনে সরকার কি করবে তা দেখার বিষয়।

 দেশে ৪০ লক্ষ ব্যাটারি চালিত রিক্সা চলছে, যেগুলোর যন্ত্রপাতি, ব্যাটারি ইত্যাদি ক্ষুদে মালিক ও শ্রমিকরা আমদানি ও চালু করেনি। করেছে বিগত হাসিনা সরকারের গডফাদার বা তার চেলা-চামচারা। সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সবচেয়ে যানজট হয় প্রাইভেট কার চলাচলে। সরকার যানজট নিরসনে, জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রাইভেট কার বন্ধ করছে না। অথচ খেটে খাওয়া গরিব রিক্সা শ্রমিকদের পেটে লাথি মারছে। 

সরকারি খরচে বা অতিসহজ মূল্যে এই রিক্সা শ্রমিকদের লাইসেন্স করার ব্যবস্থা করে এবং রাস্তায় রিক্সা চলাচলের জন্য বাইলেন করে দিয়ে সমস্যার সমাধান করা যায়। একটি হিসাবে দেখানো হয়েছে, খুব অল্প মূল্যেও যদি লাইসেন্স দেয়া হয় তাহলে বছরে সরকারের ৫ হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। এই অর্থে খুব সহজেই বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব, যদিও বিদ্যুৎ ঘাটতির আরো অনেক বড় বড় কারণ রয়েছে। 

তাছাড়া ভবিষ্যতে ব্যাটারি চালিত রিক্সা উঠিয়ে দিতে হবে নাকি প্যাডেল চালিত রিক্সাকে ব্যাটারি চালিত করা হবে তা শ্রমিক-মালিক-বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সরকারকে ঠিক করতে হবে। ব্যাটারি চালিত রিক্সা বন্ধ করতে হলে পর্যায়ক্রমে ক্ষুদে মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে ও শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থান করে একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ব্যাটারি চালিত রিক্সা পরিপূর্ণ বন্ধের পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। কিন্তু সেজন্য চালক-মালিক-জনগণের ঐকমত্য প্রয়োজন। প্যাডেল ও ব্যাটারি চালিত রিক্সা শ্রমিকদের মধ্যে বিভেদ-বিভক্তি সৃষ্টি না করে উপরোক্ত গ্রহণযোগ্য সমাধানের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম অব্যাহত রাখাতে হবে। প্যাডেল রিক্সা শ্রমিক-মালিকদেরকেও বুঝতে হবে যে, এ খড়্গ কিন্তু সরকার তাদের উপরেও নিয়েছে ও নেবে। তাই, ক্ষুদ্র গোষ্ঠী স্বার্থে তাদের উচিত হবে না অটো-শ্রমিক ভাইদের সাথে দ্বন্দ্বে জড়ানো এবং সরকারের ও বড় বুর্জোয়াদের ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার হওয়া।

চা শ্রমিক : তিন মাস ধরে  সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগানের ৫৪০ শ্রমিক মজুরি পাচ্ছেন না। এছাড়া সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) ১২টি চা-বাগানের সাড়ে ১২ হাজার শ্রমিকের বেতন বন্ধ আছে। পরিচালনা বোর্ডের  কার্যক্রমের সমস্যার কারণে চার মাস আগে শ্রমিকদের তলব (সাপ্তাহিক মজুরি) প্রদান বন্ধ হয়ে যায়। এর পর ছয় সপ্তাহ মজুরি ছাড়াই কাজ করেন শ্রমিকরা। তার পর মজুরির দাবিতে কর্মবিরতিতে যান তারা। চা-শ্রমিকরা দৈনিক মাত্র ১৭০ টাকা মজুরি পান; তা-ও তিন মাস ধরে পাচ্ছেন না। ক্ষুধা-অনাহারে চা-শ্রমিকরা চোখে অন্ধকার দেখছেন। ক্ষুধা মেটাতে বাগানের বাইরে শ্রমিকদের অনেকে কম টাকায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। নতুন সরকার ৪ মাসেও অভুক্ত শ্রমিকদের মজুরির ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছেÑ এগুলো দরিদ্র জনগণের প্রতি নিষ্ঠুর উপেক্ষা ছাড়া কী বলা যেতে পারে।

সর্বস্তরের শ্রমিক-শ্রমজীবী জনগণকে স্মরণ রাখতে হবে, সাম্রাজ্যবাদ নির্ভর আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদী ও সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা অব্যাহত রেখে ব্যাপক জনগণের কর্মসংস্থান ও তাদের জীবনমানের উন্নতি করা সম্ভব নয়। তাই মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া ব্যবস্থার অবসান করে সমাজতন্ত্র-কমিউনিজম ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিপ্লবী সংগ্রাম গড়ে তুলুন ও বেগবান করুন।

‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’-তেও  শ্রমিকশ্রেণির উপর নিপীড়ন-নির্যাতন অব্যাহত

 আন্দোলন প্রতিবেদন 
বুধবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪  |  অনলাইন সংস্করণ

গার্মেন্ট শ্রমিক আন্দোলন : বিগত ফ্যাসিবাদী হাসিনা আমলে প্রতিটি শ্রমিক আন্দোলনকে নিষ্ঠুর নির্যাতন ও প্রতারনার মাধ্যমে দমন করার ইতিহাস সবারই জানা। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. ইউনুস-এর নেতৃত্বে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতেই শ্রমিক নিপীড়ন চলছে। সরকারের শ্রম মন্ত্রণালয়ের সাথে শ্রমিকদের শ্রমআইন সংশোধন, ঘোষিত বর্ধিত মজুরি বাস্তবায়ন, ওভারটাইম-টিফিন বিল বৃদ্ধি, হাজিরা বোনাস, মাতৃত্বকালীন ছুটি, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ ও বকেয়া বেতন পরিশোধের ১৮ দফা চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু সব চুক্তি সব কারখানায় বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে আসেন। এমনকি তারা তখন ন্যূনতম ২৫,০০০ টাকা মজুরি বৃদ্ধির দাবিও করেন। 

নারায়ণগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, গাজীপুর সহ অনেক জায়গায় শ্রমিকরা রাজপথ দখল করেন তাদের ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ে, বিশেষত বকেয়া বেতন আদায়ের জন্য। কিন্তু রক্তচোষা মালিকদের অনেকেই শ্রমিকদের বকেয়া বেতন না দিয়ে কারখানা বন্ধ করে দেয়। অথচ ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ ও ‘বিপ্লব’এর চেতনাধারী ইউনুস সরকার পতিত ফ্যাসিবাদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে একই কায়দায় অভুক্ত, নিরূপায় শ্রমিকদের আন্দোলন দমনে সেনাবাহিনী-বিজিবি-র‍্যাব-পুলিশের যৌথ বাহিনী লেলিয়ে দেয়। যৌথ বাহিনীর গুলিতে ৩ জন শ্রমিক নিহত এবং ৪২ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া অসংখ্য শ্রমিকের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শ্রমিক আন্দোলন দমনে বিগত ফ্যাসিবাদী এবং বর্তমান ‘বৈষম্যবিরোধী’ সরকারের অবস্থান একই। শ্রমিকরা রক্ত দিয়েই বকেয়া বেতন আদায় করছেন। ২৫,০০০ টাকা ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি সুদূর পরাহত।

 ইতিমধ্যে মার্কিনের এক প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসে ইউনুস সরকারের উপর চাপ দিয়েছে মজুরি বৃদ্ধি ও ট্রেড ইউনিয়নের জন্য শর্ত শিথিল করতে। এটি শুনে শ্রমিকদের আপ্লুত হওয়ার কিছু নেই। সাম্রাজ্যবাদীরা ও দেশীয় মালিকরা মিলে মিশে শ্রমিক শোষণ করে। না হলে তাদের মুনাফা হয় না। তারা ইউনুস সরকারের উপর রাজনৈতিক চাপ দিচ্ছে যাতে সরকার তাদের অনুগত থাকে।

ব্যাটারি চালিত রিক্সা শ্রমিক আন্দোলন : সারা ঢাকা শহরে ১০-১২ লক্ষ ব্যাটারি চালিত রিক্সা রয়েছে। বিগত ফ্যাসিবাদী হাসিনা সরকার যানজট, বিদ্যুতের অবৈধ ব্যবহার ও দুর্ঘটনার অজুহাতে ব্যাটারি চালিত রিক্সা বন্ধ করার পাঁয়তারা করেছিল। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারও একই কারণ দেখিয়ে ব্যাটারি চালিত রিক্সা শ্রমিকদের হয়রানি-নিপীড়ন করছে। শ্রমিকদের মাঝে বিভক্তি সৃষ্টির জন্য প্যাডেল চালিত রিক্সা মালিকদের দ্বারা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হাইকোর্টে রীট করানো হয়। সেই রীট অনুযায়ী হাইকোর্ট গত ১৯ নভেম্বর ঢাকা মহানগরে ব্যাটারি চালিত রিক্সা বন্ধের নির্দেশ দিয়ে শ্রমিকদের রুটি রুজির পথ বন্ধ করে দেয়। কিন্তু ব্যাটারি চালিত রিক্সা শ্রমিকরা বীরত্বপূর্ণ আন্দোলন করে একমাসের জন্য হাইকোর্টের রায়ের স্থগিতাদেশ আদায় করেছেন। সামনে সরকার কি করবে তা দেখার বিষয়।

 দেশে ৪০ লক্ষ ব্যাটারি চালিত রিক্সা চলছে, যেগুলোর যন্ত্রপাতি, ব্যাটারি ইত্যাদি ক্ষুদে মালিক ও শ্রমিকরা আমদানি ও চালু করেনি। করেছে বিগত হাসিনা সরকারের গডফাদার বা তার চেলা-চামচারা। সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। সবচেয়ে যানজট হয় প্রাইভেট কার চলাচলে। সরকার যানজট নিরসনে, জ্বালানি সাশ্রয়ে প্রাইভেট কার বন্ধ করছে না। অথচ খেটে খাওয়া গরিব রিক্সা শ্রমিকদের পেটে লাথি মারছে। 

সরকারি খরচে বা অতিসহজ মূল্যে এই রিক্সা শ্রমিকদের লাইসেন্স করার ব্যবস্থা করে এবং রাস্তায় রিক্সা চলাচলের জন্য বাইলেন করে দিয়ে সমস্যার সমাধান করা যায়। একটি হিসাবে দেখানো হয়েছে, খুব অল্প মূল্যেও যদি লাইসেন্স দেয়া হয় তাহলে বছরে সরকারের ৫ হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। এই অর্থে খুব সহজেই বিদ্যুতের সমস্যার সমাধান করা সম্ভব, যদিও বিদ্যুৎ ঘাটতির আরো অনেক বড় বড় কারণ রয়েছে। 

তাছাড়া ভবিষ্যতে ব্যাটারি চালিত রিক্সা উঠিয়ে দিতে হবে নাকি প্যাডেল চালিত রিক্সাকে ব্যাটারি চালিত করা হবে তা শ্রমিক-মালিক-বিশেষজ্ঞদের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সরকারকে ঠিক করতে হবে। ব্যাটারি চালিত রিক্সা বন্ধ করতে হলে পর্যায়ক্রমে ক্ষুদে মালিকদের ক্ষতিপূরণ দিয়ে ও শ্রমিকদের বিকল্প কর্মসংস্থান করে একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ব্যাটারি চালিত রিক্সা পরিপূর্ণ বন্ধের পদক্ষেপ নেয়া যেতে পারে। কিন্তু সেজন্য চালক-মালিক-জনগণের ঐকমত্য প্রয়োজন। প্যাডেল ও ব্যাটারি চালিত রিক্সা শ্রমিকদের মধ্যে বিভেদ-বিভক্তি সৃষ্টি না করে উপরোক্ত গ্রহণযোগ্য সমাধানের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ সংগ্রাম অব্যাহত রাখাতে হবে। প্যাডেল রিক্সা শ্রমিক-মালিকদেরকেও বুঝতে হবে যে, এ খড়্গ কিন্তু সরকার তাদের উপরেও নিয়েছে ও নেবে। তাই, ক্ষুদ্র গোষ্ঠী স্বার্থে তাদের উচিত হবে না অটো-শ্রমিক ভাইদের সাথে দ্বন্দ্বে জড়ানো এবং সরকারের ও বড় বুর্জোয়াদের ষড়যন্ত্রের হাতিয়ার হওয়া।

চা শ্রমিক : তিন মাস ধরে  সিলেটের লাক্কাতুরা চা বাগানের ৫৪০ শ্রমিক মজুরি পাচ্ছেন না। এছাড়া সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) ১২টি চা-বাগানের সাড়ে ১২ হাজার শ্রমিকের বেতন বন্ধ আছে। পরিচালনা বোর্ডের  কার্যক্রমের সমস্যার কারণে চার মাস আগে শ্রমিকদের তলব (সাপ্তাহিক মজুরি) প্রদান বন্ধ হয়ে যায়। এর পর ছয় সপ্তাহ মজুরি ছাড়াই কাজ করেন শ্রমিকরা। তার পর মজুরির দাবিতে কর্মবিরতিতে যান তারা। চা-শ্রমিকরা দৈনিক মাত্র ১৭০ টাকা মজুরি পান; তা-ও তিন মাস ধরে পাচ্ছেন না। ক্ষুধা-অনাহারে চা-শ্রমিকরা চোখে অন্ধকার দেখছেন। ক্ষুধা মেটাতে বাগানের বাইরে শ্রমিকদের অনেকে কম টাকায় কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন। নতুন সরকার ৪ মাসেও অভুক্ত শ্রমিকদের মজুরির ব্যবস্থা করতে ব্যর্থ হয়েছেÑ এগুলো দরিদ্র জনগণের প্রতি নিষ্ঠুর উপেক্ষা ছাড়া কী বলা যেতে পারে।

সর্বস্তরের শ্রমিক-শ্রমজীবী জনগণকে স্মরণ রাখতে হবে, সাম্রাজ্যবাদ নির্ভর আমলা-মুৎসুদ্দি পুঁজিবাদী ও সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা অব্যাহত রেখে ব্যাপক জনগণের কর্মসংস্থান ও তাদের জীবনমানের উন্নতি করা সম্ভব নয়। তাই মুৎসুদ্দি বুর্জোয়া ব্যবস্থার অবসান করে সমাজতন্ত্র-কমিউনিজম ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার বিপ্লবী সংগ্রাম গড়ে তুলুন ও বেগবান করুন।

আরও খবর
 
শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র